গবেষণা প্রস্তাব (রিসার্চ প্রপোজাল) লেখার কাঠামো
থিসিস শুরুর আগে সুপারভাইজার চাইবেন একটি প্রপোজাল। কোন অংশে কী লিখবেন, ধাপে ধাপে।
গবেষণা প্রস্তাব হলো আপনার গবেষণার পরিকল্পনা: কী খুঁজবেন, কেন খুঁজবেন, কীভাবে খুঁজবেন। ভালো প্রপোজাল লিখতে পারলে থিসিসের অর্ধেক কাজ গুছিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানভেদে ফরম্যাট আলাদা হতে পারে, তবে মূল কাঠামো প্রায় একই।
প্রপোজালের অংশগুলো
- শিরোনাম: সংক্ষিপ্ত কিন্তু নির্দিষ্ট। চলক, জনগোষ্ঠী আর স্থান বোঝা যায় এমন। যেমন: “ঢাকার মানসিক হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের বার্নআউট ও ঘুমের মানের সম্পর্ক”।
- সারসংক্ষেপ: ১৫০ থেকে ২৫০ শব্দে পুরো পরিকল্পনা।
- ভূমিকা ও পটভূমি: বিষয়টি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ।
- সমস্যার বিবরণ ও যৌক্তিকতা: আগের গবেষণায় কী ফাঁক আছে, আপনার গবেষণা কী যোগ করবে।
- উদ্দেশ্য, গবেষণা প্রশ্ন ও হাইপোথিসিস: স্পষ্ট ও পরিমাপযোগ্য ভাষায়।
- সাহিত্য পর্যালোচনা: সংশ্লিষ্ট গবেষণাগুলোর সারাংশ ও বিশ্লেষণ, শুধু তালিকা নয়।
- গবেষণা পদ্ধতি:
- গবেষণার নকশা (যেমন ক্রস-সেকশনাল জরিপ)
- অংশগ্রহণকারী, নমুনায়ন পদ্ধতি ও নমুনার আকার
- পরিমাপের উপকরণ ও তাদের রিলায়েবিলিটি ও ভ্যালিডিটি
- তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া
- নৈতিক বিবেচনা: অবহিত সম্মতি, গোপনীয়তা, অংশগ্রহণ প্রত্যাহারের অধিকার, নৈতিক অনুমোদন।
- তথ্য বিশ্লেষণের পরিকল্পনা: কোন পরিসংখ্যান পদ্ধতি, কোন সফটওয়্যার।
- সময়সূচি ও বাজেট
- রেফারেন্স: সাধারণত APA ৭ম সংস্করণ অনুযায়ী।
কয়েকটি পরামর্শ
- গবেষণা প্রশ্ন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত পদ্ধতি লিখতে বসবেন না। প্রশ্নই ঠিক করে পদ্ধতি কী হবে।
- ছোট ও করা সম্ভব এমন প্রশ্ন বাছুন। সময় আর নমুনা পাওয়ার বাস্তবতা ভাবুন।
- প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য বিশ্লেষণ পরিকল্পনায় একটি করে পরিসংখ্যান পদ্ধতি থাকা উচিত।
- লেখা শেষে সুপারভাইজারের আগে একজন সহপাঠীকে দিয়ে পড়িয়ে নিন।