সত্তা লেখা, শব্দ বা বিশেষজ্ঞ খুঁজুন

হোম / সত্তা একাডেমি / একাডেমিক বিষয়

একাডেমিক বিষয়

রিলায়েবিলিটি ও ভ্যালিডিটি: গবেষণার দুই খুঁটি, সহজ ভাষায়

থিসিসের প্রশ্নাবলি বাছাই থেকে শুরু করে সেলফ-টেস্ট বানানো পর্যন্ত, সব জায়গায় এই দুটি শব্দ আসে। এদের পার্থক্য কী?

লেখা: sanid.shotta পড়তে ৬ মিনিট ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনোবিজ্ঞানে আমরা এমন জিনিস মাপি, যা চোখে দেখা যায় না: উদ্বেগ, আত্মমর্যাদা, বুদ্ধিমত্তা। তাই যে স্কেল বা প্রশ্নাবলি দিয়ে মাপা হচ্ছে, সেটি কতটা ভরসাযোগ্য, তা দুটি প্রশ্ন দিয়ে যাচাই করা হয়। প্রথমটি রিলায়েবিলিটি, দ্বিতীয়টি ভ্যালিডিটি।

রিলায়েবিলিটি (নির্ভরযোগ্যতা)

রিলায়েবিলিটি মানে মাপের ধারাবাহিকতা। একই মানুষকে একই অবস্থায় বারবার মাপলে প্রায় একই ফল আসছে কি না।

  • টেস্ট-রিটেস্ট: একই স্কেল কিছুদিন পর আবার দিলে স্কোর কতটা মেলে।
  • ইন্টারনাল কনসিস্টেন্সি: স্কেলের প্রশ্নগুলো একই বিষয় মাপছে কি না। সাধারণত ক্রোনবাখের আলফা দিয়ে দেখা হয়; অনেক গবেষণায় ০.৭০ বা তার বেশি মানকে গ্রহণযোগ্য ধরা হয়।
  • ইন্টার-রেটার: দুজন পর্যবেক্ষক একই আচরণ দেখে কতটা একই রকম নম্বর দেন।

ভ্যালিডিটি (যথার্থতা)

ভ্যালিডিটি মানে স্কেলটি আসলেই সেটি মাপছে কি না, যা মাপার কথা।

  • কনটেন্ট ভ্যালিডিটি: বিষয়ের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রশ্নে এসেছে কি না। সাধারণত বিশেষজ্ঞরা যাচাই করেন।
  • কনস্ট্রাক্ট ভ্যালিডিটি: স্কোরটি তত্ত্ব অনুযায়ী আচরণ করছে কি না। মিল থাকার কথা এমন স্কেলের সাথে সম্পর্ক বেশি (কনভারজেন্ট), আর ভিন্ন বিষয়ের স্কেলের সাথে সম্পর্ক কম (ডিসক্রিমিন্যান্ট)।
  • ক্রাইটেরিয়ন ভ্যালিডিটি: স্কোরটি বাস্তব কোনো মানদণ্ডের সাথে মেলে কি না, এখন (কনকারেন্ট) বা ভবিষ্যতে (প্রেডিক্টিভ)।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরুন একটি ওজন মাপার যন্ত্র প্রতিবার আসল ওজনের চেয়ে ২ কেজি বেশি দেখায়। যন্ত্রটি ধারাবাহিক, তাই রিলায়েবল। কিন্তু সঠিক ওজন দেখায় না, তাই ভ্যালিড নয়। অর্থাৎ রিলায়েবিলিটি ছাড়া ভ্যালিডিটি সম্ভব নয়, কিন্তু রিলায়েবল হলেই ভ্যালিড হবে, এমন নয়।

থিসিসে বিদেশি স্কেল ব্যবহার করলে দেখে নিন বাংলা অনুবাদটির বাংলাদেশি নমুনায় রিলায়েবিলিটি ও ভ্যালিডিটি যাচাই হয়েছে কি না। না হলে নিজের নমুনায় অন্তত ক্রোনবাখের আলফা রিপোর্ট করুন।

এরপর কী করবেন