প্যানিক অ্যাটাক: কী হয়, তখন কী করবেন
হঠাৎ বুক ধড়ফড়, শ্বাস আটকে আসা, মনে হয় এখনই কিছু একটা হয়ে যাবে। প্যানিক অ্যাটাক ভয়ংকর লাগে, কিন্তু এটি সামলানো যায়।
প্যানিক অ্যাটাক হলো হঠাৎ তীব্র ভয় বা অস্বস্তির আক্রমণ, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে চরমে ওঠে এবং তারপর ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেকে প্রথমবার ভাবেন হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে বা মারা যাচ্ছেন। এই ভয়টাই প্যানিককে আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ
- বুক ধড়ফড় বা হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট বা দম আটকে আসার অনুভূতি
- বুকে চাপ বা ব্যথা
- ঘাম, কাঁপুনি, হঠাৎ ঠান্ডা বা গরম লাগা
- মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব
- হাত-পা ঝিনঝিন বা অবশ লাগা
- চারপাশ অবাস্তব মনে হওয়া
- নিয়ন্ত্রণ হারানো, “পাগল হয়ে যাওয়া” বা মৃত্যুর ভয়
প্যানিক অ্যাটাকের সময় যা করবেন
- নিজেকে মনে করিয়ে দিন। “এটা প্যানিক। অস্বস্তিকর, কিন্তু কয়েক মিনিটে কমে যাবে।” শারীরিক কারণ আগেই বাদ দেওয়া থাকলে এই কথাটা খুব কাজ করে।
- শ্বাস ধীর করুন। ৪ গুনে নাক দিয়ে শ্বাস নিন, ৬ গুনে মুখ দিয়ে ধীরে ছাড়ুন। শ্বাস ছাড়ার সময়টা লম্বা হলে শরীর শান্ত হতে শুরু করে।
- বর্তমানে ফিরে আসুন। চারপাশের ৫টি জিনিস দেখুন, ৪টি ছুঁয়ে দেখুন, ৩টি শব্দ শুনুন, ২টি গন্ধ নিন, ১টি স্বাদ খেয়াল করুন।
- পালাবেন না, যদি জায়গাটি নিরাপদ হয়। ভয়ে জায়গা ছেড়ে গেলে মস্তিষ্ক শেখে যে জায়গাটি বিপজ্জনক। পরের বার ভয় আরও বাড়ে।
প্যানিক ডিসঅর্ডার কখন বলা হয়
একবার প্যানিক অ্যাটাক হওয়া মানেই রোগ নয়। কিন্তু বারবার হঠাৎ অ্যাটাক হলে, এবং অন্তত এক মাস ধরে আবার অ্যাটাক হওয়ার দুশ্চিন্তা থাকলে বা ভয়ে জীবনযাপন বদলে ফেললে (যেমন বাইরে যাওয়া বন্ধ), বিশেষজ্ঞরা একে প্যানিক ডিসঅর্ডার বলেন। এটি চিকিৎসায় ভালো হয়। কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) প্যানিকের জন্য খুব কার্যকর, প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্ট ওষুধ দিতে পারেন।
পাশের কারও প্যানিক অ্যাটাক হলে
- নিজে শান্ত থাকুন, ধীরে ও নরম স্বরে কথা বলুন।
- “শান্ত হও” বলে ধমক দেবেন না। বরং বলুন, “আমি পাশে আছি, এটা কেটে যাবে।”
- তাঁর সাথে ধীরে শ্বাস নিন, যাতে তিনি অনুসরণ করতে পারেন।
- জিজ্ঞেস করুন, এই সময়ে কী করলে তাঁর ভালো লাগে।