সত্তা লেখা, শব্দ বা বিশেষজ্ঞ খুঁজুন

হোম / সত্তা পাঠ / কাজ ও চাপ

কাজ ও চাপ

বার্নআউট: কাজের চাপ যখন ভেতর থেকে শেষ করে দেয়

সকালে অফিসের কথা ভাবলেই ক্লান্তি, কাজের প্রতি বিরক্তি, আর মনে হওয়া কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না। এটা শুধু অলসতা নয়।

লেখা: sanid.shotta পড়তে ৬ মিনিট ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বার্নআউট হলো কর্মক্ষেত্রের দীর্ঘস্থায়ী চাপ থেকে তৈরি এক ধরনের অবসাদ, যখন সেই চাপ ঠিকমতো সামলানো যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের রোগ শ্রেণিবিভাগে (ICD-11) বার্নআউটকে কর্মক্ষেত্র-সংশ্লিষ্ট একটি অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে, আলাদা রোগ হিসেবে নয়।

বার্নআউটের তিনটি দিক

  1. প্রচণ্ড ক্লান্তি: বিশ্রামের পরও শক্তি ফেরে না।
  2. কাজ থেকে মানসিক দূরত্ব: কাজ, সহকর্মী বা সেবাগ্রহীতার প্রতি বিরক্তি, উদাসীনতা বা নেতিবাচক মনোভাব।
  3. কাজের দক্ষতা কমে যাওয়া: মনে হয় কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না, নিজের কাজের মূল্য নেই।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

যেকোনো পেশায় বার্নআউট হতে পারে। তবে যেসব কাজে মানুষের সেবা দিতে হয় এবং চাপ বেশি, যেমন চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, ব্যাংকার বা কল সেন্টারের কর্মী, তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

কেন হয়

গবেষণায় কর্মক্ষেত্রের ছয়টি বিষয়কে বার্নআউটের সাথে যুক্ত পাওয়া গেছে:

  • সামর্থ্যের চেয়ে বেশি কাজের চাপ
  • নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা
  • পরিশ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি বা পারিশ্রমিক না পাওয়া
  • সহকর্মীদের সাথে সম্পর্কের অভাব
  • অন্যায্য আচরণ
  • নিজের মূল্যবোধের সাথে কাজের অমিল

অর্থাৎ বার্নআউট শুধু ব্যক্তির দুর্বলতা নয়, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও এর জন্য দায়ী।

নিজে যা করতে পারেন

  • কাজ আর বিশ্রামের মধ্যে সীমা টানুন। অফিসের পর কাজের বার্তা দেখার সময় বেঁধে দিন।
  • কাজের মাঝে ছোট বিরতি নিন, ছুটি জমিয়ে না রেখে কাজে লাগান।
  • ঘুম, খাওয়া আর শরীরচর্চার যত্ন নিন।
  • কাজের চাপ নিয়ে সুপারভাইজারের সাথে খোলাখুলি কথা বলুন।
  • বিশ্বস্ত সহকর্মী, বন্ধু বা পরিবারের সাথে অনুভূতি ভাগ করুন।

বার্নআউট নাকি বিষণ্ণতা?

বার্নআউট মূলত কাজের সাথে যুক্ত। ছুটিতে গেলে কিছুটা ভালো লাগে। কিন্তু মন খারাপ, আগ্রহ হারানো আর ক্লান্তি যদি কাজের বাইরে জীবনের সব ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিষণ্ণতাও হতে পারে। তখন PHQ-9 টেস্ট দিয়ে দেখতে পারেন এবং একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।

এরপর কী করবেন