মন খারাপ নাকি বিষণ্ণতা? পার্থক্য বোঝার উপায়
সবারই মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়। কিন্তু দুই সপ্তাহের বেশি কিছুই ভালো না লাগলে সেটা শুধু মন খারাপ না-ও হতে পারে।
প্রিয় কিছু হারালে, পরীক্ষায় খারাপ করলে বা কারও সাথে ঝগড়া হলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। মন খারাপ একটি সাধারণ আবেগ। এর একটা কারণ থাকে, আর সময়ের সাথে বা ভালো কিছু ঘটলে তা কেটে যায়।
বিষণ্ণতা (ডিপ্রেশন) এর চেয়ে আলাদা। এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, যা ভাবনা, অনুভূতি, ঘুম, খাওয়া আর কাজ সবকিছুকে প্রভাবিত করে।
পার্থক্য এক নজরে
| বিষয় | মন খারাপ | বিষণ্ণতা |
|---|---|---|
| সময় | কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন | টানা অন্তত দুই সপ্তাহ, দিনের বেশিরভাগ সময় |
| কারণ | সাধারণত স্পষ্ট কারণ থাকে | কারণ থাকতেও পারে, না-ও থাকতে পারে |
| আনন্দ | ভালো কিছু ঘটলে ভালো লাগে | প্রিয় কাজেও আগ্রহ বা আনন্দ থাকে না |
| নিজের প্রতি ধারণা | মোটামুটি অটুট থাকে | নিজেকে মূল্যহীন বা অপরাধী মনে হয় |
| দৈনন্দিন কাজ | চালিয়ে নেওয়া যায় | পড়াশোনা, কাজ, সম্পর্ক কঠিন হয়ে পড়ে |
বিষণ্ণতার লক্ষণ
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দেখেন, নিচের লক্ষণগুলোর কয়েকটি টানা অন্তত দুই সপ্তাহ, প্রায় প্রতিদিন আছে কি না:
- বেশিরভাগ সময় মন খারাপ, ফাঁকা বা হতাশ লাগা
- আগের প্রিয় কাজেও আগ্রহ বা আনন্দ না পাওয়া
- ঘুম অনেক কমে যাওয়া বা অনেক বেড়ে যাওয়া
- খিদে ও ওজনে বড় পরিবর্তন
- সারাক্ষণ ক্লান্তি, শক্তি না পাওয়া
- নিজেকে মূল্যহীন বা অকারণে অপরাধী মনে হওয়া
- মনোযোগ দিতে বা সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা
- অস্থির লাগা, অথবা চলাফেরা ও কথা ধীর হয়ে যাওয়া
- মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা
তালিকার সাথে মিলে গেলেই নিজেকে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ভাববেন না। রোগনির্ণয় করতে পারেন শুধু একজন প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা
- “মনের জোর কম বলে হয়।” না। বিষণ্ণতা দুর্বলতা বা অলসতা নয়। জিনগত, শারীরিক, মানসিক ও পারিপার্শ্বিক অনেক কারণ মিলে এটি হয়।
- “এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।” অনেক সময় হয় না। চিকিৎসা না নিলে বিষণ্ণতা দীর্ঘ হতে পারে।
- “ডাক্তার দেখানো মানে পাগল।” শরীরের অসুখে যেমন ডাক্তার দেখাই, মনের অসুখেও তেমনি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া স্বাভাবিক।
চিকিৎসা কীভাবে হয়
বিষণ্ণতা চিকিৎসায় ভালো হয়। সাইকোলজিস্টের কাছে সাইকোথেরাপি (যেমন CBT) আর প্রয়োজনে সাইকিয়াট্রিস্টের দেওয়া ওষুধ, এই দুটি প্রধান পথ। কোনটি লাগবে, তা বিশেষজ্ঞ ঠিক করবেন।
কাছের কেউ বিষণ্ণ হলে
- বিচার না করে মন দিয়ে শুনুন। সমাধান দিতে তাড়াহুড়ো করবেন না।
- বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে উৎসাহ দিন, সম্ভব হলে সাথে যান।
- আত্মহত্যার কথা বললে গুরুত্ব দিন। তাকে একা রাখবেন না।